ব্যুরো নিউজ, ২৯ মে ২০২৬ : বাংলার পাশেই ওড়িশার পুরুনাগড়ে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেল এক প্রাচীন নগর সভ্যতার নিদর্শন, যা প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সুবর্ণরেখার উপনদী কেরান্দির পাশেই এই আবিষ্কার ইতিহাস বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্থানে খননকার্য চালানোর পর মাটির তলায় যা পাওয়া গেছে, তা গবেষকদের অবাক করেছে।
প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি সাধারণ গ্রাম বলে মনে করা হলেও, একাধিক লোহা গলানোর কারখানার হদিশ মেলায় এটি যে একটি সমৃদ্ধ নগর ছিল, সে বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্রায় নিশ্চিত। খননস্থলে শত শত লোহার টুকরো ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি প্রাচীন যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প তালুক ছিল। শুধুমাত্র লোহার কারখানা নয়, এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে প্রচুর সেরামিকের জিনিস, মাটির পাত্র, এবং বিভিন্ন আকারের পাথরের যন্ত্রপাতি উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে পাথরের কুঠার ও পেষাই যন্ত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার উচ্চ ও মধ্য মহানদী উপত্যকার ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে, এটি প্রাচীন ওড়িশার আর্থসামাজিক পরিস্থিতির উপর নতুন আলোকপাত করবে। এই বিপুল সংখ্যক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রমাণ করে যে, বাংলার অদূরেই এক উন্নত ও শিল্পসমৃদ্ধ সভ্যতা একসময় বিরাজ করত। এই আবিষ্কার ভারতের প্রত্নতত্ত্ব গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।








