জম্মু-কাশ্মীরে বড় নাশকতার ছক বানচাল: বারামুলায় উদ্ধার ১৪ রকেট গ্রেনেড, চলছে জঙ্গি তল্লাশি

জম্মু-কাশ্মীরের বারামুলায় বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার হয়েছে ১৪টি রকেট গ্রেনেড ও বিপুল বিস্ফোরক। চলছে ব্যাপক জঙ্গি তল্লাশি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ মে ২০২৬ঃ জম্মু ও কাশ্মীর: বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল নিরাপত্তা বাহিনী। রবিবার বারামুলা জেলার চান্দোসা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক বিস্ফোরক, যার মধ্যে রয়েছে ১৪টি OG-7V এবং ৯টি PG-7P রকেট চালিত গ্রেনেড। এগুলি মূলত রুশ সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক হিসেবে পরিচিত।

নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, পুলওয়ামা হামলার ধাঁচে সেনাবাহিনী অথবা গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। সময়মতো অভিযান চালিয়ে সেই ছক ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ এবং ৫২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের যৌথ অভিযানে এই সাফল্য এসেছে। উদ্ধার হওয়া সামরিক মানের অস্ত্রের পরিমাণ দেখে উপত্যকায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। অভিযানের পর থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে জঙ্গিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অস্ত্র মজুত করে জঙ্গিরা আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে উপত্যকায় জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় গোয়েন্দা মহল সতর্ক ছিল।

অন্যদিকে, রাজৌরি সীমান্তের গম্ভীর মুঘলান জঙ্গলেও শনিবার রাত থেকে ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’ নামে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় সেনা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ওই এলাকায় তিন পাকিস্তানি জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ড্রোন ও অত্যাধুনিক নজরদারি যন্ত্র ব্যবহার করে তল্লাশি চলছে। উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই জঙ্গিরা নতুন করে হামলার ছক কষছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে দ্রুত পদক্ষেপ করে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।