ব্যুরো নিউজ , ২৫ মে ২০২৬ : কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের মারণ থাবার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সশস্ত্র হামলা ও কুসংস্কার। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, গত রবিবার পূর্ব কঙ্গোর মংবওয়ালু জেনারেল হাসপাতালে ইবোলা আক্রান্তদের চিকিৎসাকেন্দ্রে একদল ক্ষুব্ধ ও সশস্ত্র যুবক চড়াও হয়। তারা গুলি চালাতে শুরু করে এবং চিকিৎসকদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে দুই মৃত ইবোলা আক্রান্তের দেহ হস্তান্তরের দাবি জানায়। এই আকস্মিক হামলায় রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়ায়।
হাসপাতালের ডিরেক্টর ডঃ রিচার্ড লোকুদু জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে ‘জেনারেল অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এটি তৃতীয় ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্রে হামলার ঘটনা। চিকিৎসকদের মতে, ইবোলা আক্রান্তদের মৃতদেহও অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় সরকারি তত্ত্বাবধানে বিশেষ সুরক্ষাবিধি মেনে সৎকার করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিধিনিষেধ মানতে নারাজ। এর আগে শনিবার ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’-এর একটি কোয়ারেন্টাইন তাঁবুতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই সুযোগে সেখান থেকে ১৮ জন ইবোলা রোগী পালিয়ে যান। এঁদের মধ্যে ৪ জনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে এসেছে, যার মধ্যে ১ জনের রিপোর্ট পজ়িটিভ। বাকিদের খোঁজ চলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কঙ্গোর এই পরিস্থিতিকে ‘ভেরি হাই রিস্ক’ বলে চিহ্নিত করেছে। ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুযোহ’ স্ট্রেন হওয়ায় চিকিৎসকদের চিন্তা আরও বেড়েছে, কারণ এর কোনও প্রতিষেধক নেই। প্রতিবেশী উগান্ডাতেও নতুন করে ২ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতে যাতে মারণ ভাইরাসটি প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক দেশের সমস্ত বিমানবন্দর ও প্রবেশদ্বারগুলিতে কঠোর স্ক্রিনিং ও নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে।








