ব্যুরো নিউজ, ৪ নভেম্বর ২০২৬: ওয়াশিংটন: মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। নিউ হ্যাম্পশায়ারের সেনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সেনেটর হওয়ার নজির গড়লেন ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস পাপাস। রিপাবলিকান প্রার্থী তথা প্রাক্তন সেনেটর জন ই. সুনুনুকে পরাজিত করে এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সি পাপাস। তাঁর এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে LGBTQ+ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের এই আসনটি এত দিন ডেমোক্র্যাট সেনেটর জিন শাহিনের দখলে ছিল। অবসরের কারণে তিনি পুনর্নির্বাচনে অংশ নেননি। তাঁর জায়গায় নির্বাচিত হলেন পাপাস। অন্যদিকে, সুনুনু ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই আসনের সেনেটর ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ফের সেনেটে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জয় অধরা থেকে গেল তাঁর।
রাজনীতিতে আসার আগে পারিবারিক রেস্তরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাপাস। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হন তিনি। সেই সময়ও রাজ্যের প্রথম প্রকাশ্যে LGBTQ+ পরিচয়ের কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নজির গড়েছিলেন পাপাস।
ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের পরিচয় প্রকাশ্যে রেখেছেন তিনি। সমলিঙ্গের বিবাহ বৈধ হওয়ার পর ভ্যান বেন্টলিকে বিয়ে করেন পাপাস। রাজনৈতিক জীবনেও তাঁর স্বামীকে পাশে দেখা গিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে LGBTQ+ সম্প্রদায়ের অধিকার এবং বৈষম্য দূর করার বিষয়গুলি তুলে ধরেছিলেন তিনি।
মার্কিন কংগ্রেসে এর আগে LGBTQ+ পরিচয়ের একাধিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। প্রকাশ্যে সমকামী নারী সেনেটরও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে পাপাসের জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ যিনি মার্কিন সেনেটে নির্বাচিত হলেন। ফলে এই জয়কে শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের পরিসর বিস্তারের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে জয়ের পর পাপাস দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁর দাবি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রভাবশালী ধনকুবের ও বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন সেনেট দেশের আইন প্রণয়ন, বিচারপতি নিয়োগে অনুমোদন এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগামী জানুয়ারি ২০২৭-এ দায়িত্ব গ্রহণের কথা পাপাসের। তাঁর এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে LGBTQ+ প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করল।








