ব্যুরো নিউজ, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ : ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ওড়িশার গঞ্জাম ও গজপতি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দিতে এয়ারড্রপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও জোরদার করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গঞ্জাম জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর হেলিকপ্টার এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে প্রশাসন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি জানিয়েছেন, গঞ্জামের পাত্রপুর ব্লকে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। বন্যার স্রোত এতটাই তীব্র যে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরাও বেশ কয়েকটি দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করতে পারেননি। তাই উদ্ধারকাজ এবং দুর্গম এলাকায় খাবার পৌঁছে দিতে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে। যে ২১টি জায়গায় সড়কপথে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে আকাশপথে ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে।
রুশিকুল্যা নদীর জল উপচে পড়ায় গঞ্জাম জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একাধিক গ্রাম প্লাবিত, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত এবং রাস্তার অংশ ভেসে গেছে। পটাশালার কাছে একটি সেতু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ভঞ্জনগর শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার জল ঢুকে পড়েছে। আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দিতে উদ্ধারকারী দল, হেলিকপ্টার এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর উপরেই ভরসা করছে প্রশাসন।








