ব্যুরো নিউজ, ৩০ অক্টোবর ২০২৬: মাত্র চোদ্দো বছর বয়সেই জাতীয় সাঁতারে নিজের ছাপ রাখল বারাসতের সানিথি মুখোপাধ্যায়।
সম্প্রতি আমেদাবাদে অনুষ্ঠিত জাতীয় শর্ট কোর্স সিনিয়র অ্যাকোয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপে সে চারটি পদক জয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। দু’টি রুপো এবং দু’টি ব্রোঞ্জ পদক জিতে সে প্রতিযোগিতার কনিষ্ঠতম পদকপ্রাপক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে।
এর আগে পুজোয় সাব-জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জ জিতে সে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিল। তবে সিনিয়র পর্যায়ে দেশের সেরা সাঁতারুদের সঙ্গে লড়াই করে এই সাফল্য অর্জন করা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।
সানিথি ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে রুপো, ৪০০ মিটার মেডলিতে ব্রোঞ্জ, ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ফের রুপো এবং ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছে। এত সাফল্য সত্ত্বেও সানিথি নিজের পারফরম্যান্সে খুশি নয়। সে মনে করে, আরও অনেক উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। সানিথির মূল লক্ষ্য অলিম্পিকে দেশের জন্য পদক জয় করা। তবে সে কোনো কোটায় নয়, বরং যোগ্যতামান অর্জন করে অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন দেখে। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে সুযোগ না পেলে সে ২০২৮ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিকের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে।
তবে এত আনন্দের মাঝেও চিন্তায় ভারাক্রান্ত সানিথির শিক্ষক পিতা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মেয়ের পারফরম্যান্স নিয়ে আমাদের কখনও ভাবতে হয় না। তবে সাঁতারের মতো খেলা চালাতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হয়। এক-একটা কস্টিউমের দাম প্রায় সত্তর হাজার টাকা। সেখানে একটা কস্টিউম পরে মোটামুটি চারটে ইভেন্টে লড়তে পারে। অর্থাৎ, একটা প্রতিযোগিতাতেই মোটামুটি দু’টো কস্টিউম প্রয়োজন হয়।”
তাই এই প্রতিভাবান দরিদ্র সাঁতারুর পরিবার তার প্রশিক্ষণের খরচ চালানোর জন্য সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে। “শুনেছি রাজ্যের নতুন সরকার কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের সাহায্য করা নিয়ে। মেয়ের জন্য এমন সাহায্য পেলে ভালো হয়”, সঞ্জয়বাবু জানান।








