ব্যুরো নিউজ, ১০ জুন ২০২৬ঃ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন দেখেছিলেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আর্তান। দেশের ইতিহাসে প্রথম রেফারি হিসেবে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে দায়িত্ব পালনের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মার্কিন অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির কারণে সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল। তবে বিশ্বকাপ পরিচালনার সুযোগ না পেলেও দেশে ফিরে তিনি পেলেন বীরের সম্মান।
ওমরের দাবি, মায়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে কোনও স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই তাঁকে তুরস্কের ইস্তানবুলে ফেরত পাঠানো হয়। কেন আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল না, সে বিষয়েও কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে স্বীকৃত ওমর এই ঘটনায় ভীষণ হতাশ। তিনি জানান, তাঁর কাছে বৈধ মার্কিন ভিসা এবং সোমালিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তাঁর মতে, আমেরিকার সঙ্গে তাঁর দেশের সম্পর্কের কারণেই এমনটা ঘটেছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোমালিয়ার প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক সিসে আদেন আবশির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “ওমর আর্তান আফ্রিকার অন্যতম সম্মানিত রেফারি। তাঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, এটি ফুটবলের ন্যায্যতা এবং যোগ্যতার আদর্শকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।” ফিফা অবশ্য আয়োজক দেশের অভিবাসন নীতির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণের অভাবের কথা বলে দায় এড়িয়ে গেছে।
তবে বুধবার মোগাদিশুর আদেন আবদুলে ওসমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর প্রত্যাবর্তনে কোনও হতাশার ছবি ছিল না। বিমানবন্দরে শত শত সমর্থক, ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তা এবং সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে তাঁকে বীরের সম্মান জানান। ব্যানার, স্লোগান আর করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে অভিভূত আর্তান প্রতিশ্রুতি দেন, “আল্লা চাইলে পরের বিশ্বকাপে অবশ্যই উপস্থিত থাকব। সোমালিয়ার মানুষ যেন এ ঘটনায় সান্ত্বনা খুঁজে নেন এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখেন।”








