ব্যুরো নিউজ, ১০ জুন ২০২৬ঃ ত্রিপুরার খোয়াই আদালতের সমন নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার কালীঘাট। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩০/বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে আদালতের বেলিফ নোটিস জারি করতে আসতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। বুধবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। জানা গেছে, ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খোয়াই থানা এলাকায় গিয়েছিলেন।
সেই সফরকে কেন্দ্র করে একটি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আজ সেই মামলাতেই নতুন মোড় আসে। খোয়াই আদালত থেকে একটি জরুরি আইনি নোটিস কলকাতার আলিপুর আদালতে পাঠানো হয়, যা আজই অভিষেকের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। আলিপুর আদালত থেকে বেলিফ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মীরা জানান, অভিষেক বর্তমানে বাড়িতে নেই। বেলিফ তখন আইনি নিয়ম মেনে বাড়ির সদর দরজায় বা দেওয়ালে নোটিস সাঁটানোর কথা বলেন।
এই কথা শুনেই কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভিভিআইপি পাড়ায় এমন ঘটনা দলের ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে বুঝে তাঁরা বেলিফ ও পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বচসায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং দেওয়ালে নোটিস সাঁটানোর মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে দেখে দ্রুত খবর দেওয়া হয় দলের শীর্ষ স্তরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বেলিফ ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও নেগোশিয়েশন শুরু করেন। কুণাল ঘোষের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত একজন দলীয় কর্মী নোটিসটি গ্রহণ করেন, যার ফলে দেওয়ালে নোটিস সাঁটানোর মতো চরম অস্বস্তি এড়ানো সম্ভব হয়। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা সৃষ্টি করেছে।








