ব্যুরো নিউজ, ১৭ জুন ২০২৬ঃ আরজি কর মেডিকেল কলেজের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তে এবার পানিহাটি শ্মশানে পৌঁছাল সিবিআই। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট ঘটনার দিনই পানিহাটি শ্মশানে তড়িঘড়ি চিকিৎসকের মৃতদেহ সৎকার করা হয় বলে অভিযোগ। সেই তড়িঘড়ি দাহ করার নেপথ্যে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে, তা উন্মোচন করতেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের এই পদক্ষেপ।
হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন করে ময়দানে নেমেছে সিবিআই-এর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। কয়েকদিন আগেই আরজি কর হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালায় তদন্তকারীরা। এরপর বুধবার সরাসরি তাঁরা পৌঁছে গেলেন পানিহাটির সেই শ্মশান ঘাটে, যেখানে দাহ করা হয়েছিল নির্যাতিতাকে। মূল লক্ষ্য একটাই, ঘটনার রাতের পানিহাটি শ্মশানে ঠিক কী কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জোগাড় করা।
নির্যাতিতার পরিবারের শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই মেয়ের মৃতদেহ দ্রুত পুড়িয়ে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই মামলার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। অভিযোগের তির ছিল মূলত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের দিকে। আদালতের নির্দেশ পালন করতেই এবার শ্মশানের রেজিস্টার বুক ও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা কর্মীদের বয়ান মেলাতে হানা দিল সিবিআই। এই ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বলেন, “বিচার আনবই”।
পাশপাশি, একই সুরে নির্যাতিতার মায়ের দাবি, “ন্যায় বিচার হবেই।” ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি করের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি চিকিৎসকের দেহ। সিবিআই-এর প্রথম দফার চার্জশিট ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতি রয়েছে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল নির্যাতিতার পরিবার। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই হাইকোর্ট সিবিআই-কে বিশেষ ‘সিট’ গঠন করে নতুন করে তদন্তে নামার নির্দেশ দেয়। কার ইশারায় সেদিন দ্রুত সৎকার সম্পন্ন হয়েছিল, এখন সেটাই খুঁজে বের করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।








