ভালবাসার টানে রাশিয়া ছেড়ে ভাগলপুরে, ঝুপড়িতেও থাকতে রাজি রুশ তরুণী জুলি

রাশিয়ার জুলি ভালোবাসার টানে ভাগলপুরে এলেন রাহুল যাদবের কাছে। সমস্ত বাধা পেরিয়ে নভেম্বরেই তাঁদের বিয়ে, ঝুপড়িতে থাকতেও রাজি রুশ তরুণী।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: ভালোবাসার কোনও সীমানা হয় না, এই চিরন্তন সত্য আরও একবার প্রমাণিত হল ভাগলপুরে। রাশিয়ার তরুণী জুলি তাঁর প্রেমিকের টানে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে চলে এলেন ভারতের বিহারে। ভাগলপুরের বাসিন্দা রাহুল যাদব কর্মসূত্রে রাশিয়া গিয়েছিলেন, সেখানেই তাঁর আলাপ হয় জুলির সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাঁদের বন্ধুত্ব গভীর প্রেমে পরিণত হয়। দেশ, সংস্কৃতি, ভাষা এবং আর্থিক অবস্থার ভিন্নতা তাঁদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে দুই পরিবারই এই সম্পর্ক নিয়ে দ্বিধায় ছিল, কিন্তু ভালোবাসার কাছে সমস্ত যুক্তি-তর্ক হার মানে।

রাহুল যখন রাশিয়া থেকে নিজের বাড়ি ফিরে আসেন, তখন জুলি এই দূরত্ব মেনে নিতে পারেননি। ভালোবাসার টানে তিনি তাঁর পরিবার সহ চলে আসেন ভাগলপুরে, রাহুলের কাছে। জুলির এই আগমন রাহুলের পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করেছে। রাহুলের পরিবার একটি সাধারণ অস্থায়ী বাড়িতে থাকেন, যা একটি ঝুপড়ির মতোই। রাহুল জুলি-কে জানান যে তাঁর কোনও বড় অট্টালিকা নেই, তিনি খুবই সাধারণ একটি ঝুপড়িতে থাকেন। কিন্তু জুলি এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেননি। তিনি রাহুলের পাশে ওই সাধারণ বাড়িতেই তাঁর স্বপ্নের সংসার পাততে রাজি। এমনকি নিজের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে কুঁড়েঘরে থাকতেও তাঁর আপত্তি নেই। জুলির এই সিদ্ধান্তে রাহুল এবং তাঁর পরিবার আপ্লুত। দুই পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে এবং নভেম্বরেই রাহুল ও জুলির বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। স্থানীয় রীতিনীতি মেনেই তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হবে। এই অনন্য প্রেমের গল্প এখন ভাগলপুর থেকে রাশিয়া পর্যন্ত সকলের মুখে মুখে ফিরছে, যা প্রমাণ করে যে সত্যিকারের ভালোবাসা সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে পারে এবং মানুষের হৃদয়কে এক করে।