জেল হেফাজতে বন্দির রহস্যমৃত্যু: গাফিলতি নাকি ষড়যন্ত্র? প্রশ্ন হাওড়ার লিলুয়ায়

হাওড়ার লিলুয়া জেলে বন্দি প্রসেনজিৎ ঘোষের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি ও জেলের ভেতরে মাদক প্রবেশই মৃত্যুর কারণ। তদন্তের দাবি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬:  হাওড়ার লিলুয়া জেলে বন্দি প্রসেনজিৎ ঘোষের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত আগস্ট মাস থেকে একটি গুলি চালানোর ঘটনায় জেল হেফাজতে ছিলেন প্রসেনজিৎ। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তৎপরবর্তী চাঞ্চল্যকর তথ্যে জেলের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ তারিখ থেকেই প্রসেনজিৎ জেলের ভেতরে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর মা বারবার জেল কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসার জন্য অনুরোধ জানালেও কোনো কর্ণপাত করা হয়নি।

অভিযোগ, তাঁর সুচিকিৎসায় চরম অবহেলা করা হয়। অবশেষে নিরুপায় হয়ে পরিবার উকিলের মাধ্যমে হাওড়া কোর্টে পিটিশন দাখিল করে। আদালতের নির্দেশের পরই গত রাতে প্রসেনজিৎকে হাওড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নেশা করার ফলেই মৃত্যুর দাবি করলেও, প্রশ্ন উঠেছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জেলের ভেতরে নিষিদ্ধ নেশাদ্রব্য কীভাবে প্রবেশ করল? এর নেপথ্যে কার বা কাদের মদত রয়েছে? সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগও জোরালো। জেল কর্তৃপক্ষ শুরুতেই সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে হয়তো অকালে প্রাণ হারাতে হতো না প্রসেনজিৎকে। ছেলের মৃত্যুর জন্য সম্পূর্ণভাবে জেলের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন প্রসেনজিতের মা। তিনি জানান, ন্যায়বিচার পেতে এবং দোষী জেলারের শাস্তির দাবিতে খুব শীঘ্রই লিলুয়া থানা ও হাওড়া কোর্টে আইনি অভিযোগ দায়ের করবেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে সর্বত্র।